বিষয়বস্তুতে যান বিষয়বস্তুতে যান
প্রবন্ধ

ক্রিকেটে নো বল: ৫ নিয়মের পরিষ্কার ব্যাখ্যা

ক্রিকেটে নো বল হলো এমন একটি অবৈধ ডেলিভারি, যাতে ব্যাটিং দল অন্তত ১ রান পায় এবং বলটি ওভারের বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না। ক্রিকেট ভক্ত বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকদের জন্য নো বলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ...

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read
ক্রিকেটে নো বল: ৫ নিয়মের পরিষ্কার ব্যাখ্যা
❦

ক্রিকেটে নো বল: ৫ নিয়মের পরিষ্কার ব্যাখ্যা

ক্রিকেটে নো বল হলো এমন একটি অবৈধ ডেলিভারি, যাতে ব্যাটিং দল অন্তত ১ রান পায় এবং বলটি ওভারের বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না। ক্রিকেট ভক্ত বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকদের জন্য নো বলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বোলারের সামনের পা পপিং ক্রিজ অতিক্রম করা, কোমর-উচ্চ ফুলটস, বিপজ্জনক বাউন্সার এবং ফিল্ডিং আইন ভঙ্গ। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১ অনুযায়ী, নো বলে ব্যাটারকে সাধারণত বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ বা হিট উইকেট করা যায় না; তবে রানআউট, বল দুবার মারা এবং ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার মতো আউট কার্যকর থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সীমিত ওভারের নিয়মে নো বলের পরবর্তী ডেলিভারিতে ফ্রি হিটও প্রযোজ্য হতে পারে। তাই স্কোরবোর্ডে নো বল দেখলেই ১ রান ধরে থেমে যাবেন না—ডেলিভারির ধরন, অতিরিক্ত রান এবং সম্ভাব্য আউট আলাদা করে দেখুন।

Pyramid King · Free demo

ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ার হাত তুলে নো বল ঘোষণা করছেন, ব্যাটার ও বোলার উদ্বিগ্নভাবে তাকিয়ে আছে

ক্রিকেটের একটি নো বল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে শেষ ওভারে একটি ওভারস্টেপ, কোমর-উচ্চ ফুলটস বা ক্যাচের পর আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ভুল বোঝা হলে দর্শক এবং খেলোয়াড়—দুই পক্ষই বিপদে পড়ে। নিচের তুলনাটি আগে দেখে নিন; পরে প্রতিটি পরিস্থিতির সূক্ষ্ম নিয়ম খোলা হবে। আরও নির্ভরযোগ্য ম্যাচ বিশ্লেষণের জন্য ক্রিকেট ভক্তের নিয়মভিত্তিক কনটেন্ট অনুসরণ করা কাজে দেবে।

আরও তথ্য পরিষ্কারভাবে দেখে নিন:

আরও জানুন

দ্রুত তুলনা: কোন ডেলিভারি নো বল?

পরিস্থিতি নো বল? ব্যাটিং দলের সুবিধা
বোলারের সামনের পা পপিং ক্রিজের সামনে পড়ে হ্যাঁ ১ রান, বল পুনরায় হবে
কোমরের বেশি উচ্চতায় ফুলটস সাধারণত হ্যাঁ ১ রান, সীমিত ওভারে ফ্রি হিট
বাউন্সার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে প্রতিযোগিতা অনুযায়ী ১ রান, বল পুনরায় হবে
বল ব্যাটারের কাছে পৌঁছানোর আগে দুইবারের বেশি বাউন্স করে হ্যাঁ ১ রান, বল পুনরায় হবে
ক্যাচ নিয়ে ব্যাটার আউট নো বল হলে ক্যাচ আউট নয় খেলা চলবে
নো বলে রানআউট সম্ভব রানআউট বহাল থাকতে পারে

একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখুন: নো বলের শাস্তি এবং অতিরিক্ত রান এক জিনিস নয়। বোলারের ভুলের জন্য ১ রান পেনাল্টি যোগ হয়, তারপর ব্যাটার ব্যাটে লাগিয়ে দৌড়ালে সেই রান, বাউন্ডারি বা বাই-লেগ বাইও আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, নো বলে ব্যাটার চার মারলে মোট পাঁচ রান হতে পারে; বল ব্যাটে না লেগে সীমানায় গেলে মোট পাঁচটি বাই বা লেগ বাইও হতে পারে। ক্রিকেটের আইন ২১ এই নীতির ভিত্তি দেয়, আর আন্তর্জাতিক ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের খেলার শর্ত অতিরিক্ত প্রয়োগ নির্ধারণ করে। বিপজ্জনক জায়গা এখানেই: স্কোরবোর্ডে শুধু “এনবি” দেখে ডেলিভারির পূর্ণ ফল বোঝা যায় না।

ক্রিকেটের অতিরিক্ত রান ও বাই-লেগ বাই বোঝার গাইড

প্রথম ধাপ: বোলারের পা কেন নো বল হয়?

বোলারের সামনের পা পপিং ক্রিজের সামনে মাটিতে পড়লে নো বল হয়, আর পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজের বাইরে গেলে সেটিও অবৈধ ডেলিভারি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই নিয়ম বোলারের শরীরের অবস্থান নয়, পা মাটিতে পড়ার নির্দিষ্ট স্থান এবং সময়ের ওপর নির্ভর করে; তাই সামান্য ওভারস্টেপও বাতিল হয়।

এটাই সবচেয়ে প্রচলিত নো বল, এবং টেলিভিশন আম্পায়ার বা তৃতীয় আম্পায়ার সাধারণত বোলারের সামনের পায়ের ছবি থামিয়ে পরীক্ষা করেন। পপিং ক্রিজের রেখা নিজে নিরাপদ সীমার অংশ হলেও তার সামনে মাটি স্পর্শ করলে সমস্যা হয়। ডানহাতি ও বাঁহাতি বোলারের ডেলিভারি স্ট্রাইড আলাদা হওয়ায় আম্পায়ারকে বল ছাড়ার মুহূর্ত, পায়ের গোড়ালি এবং রেখার অবস্থান একসঙ্গে দেখতে হয়। “রেখা ছুঁলেই নো বল”—এটি সব ক্ষেত্রে সঠিক ব্যাখ্যা নয়; রেখার ভেতরের অংশ ও রেখার সামনের মাটির পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব বলেছে, “বোলারের পা নির্ধারিত ক্রিজের সীমা অতিক্রম করলে ডেলিভারি বৈধ থাকে না”—বাংলায় এর ব্যবহারিক অর্থ হলো রানআপ নয়, শেষ পায়ের অবস্থানই সিদ্ধান্তের কেন্দ্র। প্রযুক্তি না থাকলে মাঠের আম্পায়ারের দৃষ্টিকোণই চূড়ান্ত, আর ভুলটি এক বলেই ম্যাচের চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে বোলারদের জন্য নিরাপদ অভ্যাস হলো রানআপের শেষ তিন ধাপে গতি কমানো, অবতরণের স্থান চিহ্নিত করা এবং নেট অনুশীলনে ক্রিজের অন্তত কয়েক সেন্টিমিটার ভেতরে পা ফেলার অভ্যাস করা। অধিনায়কেরও নজর রাখা উচিত বোলার ক্লান্ত হলে তার ফ্রন্ট-ফুট নো বল বাড়ছে কি না। ডেটা বিশ্লেষণে প্রতি ১০০ বৈধ ডেলিভারিতে নো বলের হার আলাদা করে দেখা যায়; কিন্তু শুধুই হার নয়, কোন ওভারে ভুল হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বোলিং রানআপ ও লাইন-লেন্থ নিয়ন্ত্রণের কৌশল

দ্বিতীয় ধাপ: কোমর-উচ্চ ফুলটস ও বাউন্সারের নিয়ম কী?

ব্যাটার স্বাভাবিক সোজা ভঙ্গিতে দাঁড়ালে বল কোমরের ওপর দিয়ে সরাসরি গেলে কোমর-উচ্চ ফুলটস সাধারণত নো বল হয়। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সীমার বেশি বাউন্সার, ব্যাটারের মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া বল, অথবা পিচে অস্বাভাবিকভাবে একাধিকবার বাউন্স করা ডেলিভারিও খেলার শর্ত অনুযায়ী নো বল হতে পারে।

এখানে “কোমর” বলতে ব্যাটারের দাঁড়ানো অবস্থার কোমর বোঝানো হয়, ব্যাটার ঝুঁকে পড়লে বলের উচ্চতা মেপে নিয়ম এড়ানো যায় না। বলটি ব্যাটারের পপিং ক্রিজে অবস্থানের সময় কতটা উঁচুতে থাকবে—সেটিই বিচার্য। ধীরগতির বোলার, ইয়র্কার মিস করা পেসার এবং ভেজা বলের কারণে ফুলটস—এই তিন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বেশি। টি-টোয়েন্টি, একদিনের ক্রিকেট এবং টেস্টে বাউন্সারের অনুমোদিত সংখ্যা বা সতর্কতার প্রয়োগ এক নয়; তাই আইসিসির ম্যাচ-নির্দিষ্ট শর্ত না দেখে “সব ফরম্যাটে একই নিয়ম” ধরে নেওয়া বিপজ্জনক।

আরও একটি কম আলোচিত বিষয় হলো, বল ব্যাটারের কাছে পৌঁছানোর আগে মাটিতে একবারের বেশি বাউন্স করলে সেটি সাধারণত নো বলের আওতায় পড়ে। বল ইচ্ছাকৃতভাবে পিচের বাইরে পড়লে, ব্যাটারের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে গেলে বা বোলারের নিক্ষেপ বৈধ ডেলিভারির সীমা হারালে আম্পায়ার নো বল ডাকতে পারেন। তবে ওয়াইড ও নো বল এক নয়: বল ব্যাটারের নাগালের বাইরে সরে গেলে ওয়াইড, আর বোলিং অ্যাকশনের বা উচ্চতার নির্দিষ্ট আইন ভাঙলে নো বল হতে পারে। এই বিভাজন স্কোরকার্ড, বোলারের পরিসংখ্যান এবং ফ্রি হিট—সবকিছুকে প্রভাবিত করে।

বোলারকে তাই প্রতিটি ডেলিভারির আগে তিনটি প্রশ্ন করতে হবে:

  1. বলটি ব্যাটারের কোমরের ওপরে ফুলটস হবে কি না?
  2. বাউন্সারের উচ্চতা ও নির্ধারিত সংখ্যার সীমা অতিক্রম করবে কি না?
  3. বলটি পিচে স্বাভাবিকভাবে পড়বে এবং ব্যাটারের নাগালের মধ্যে থাকবে কি না?

এই তিনটি পরীক্ষা ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বিশেষ জরুরি। আইসিসির সীমিত ওভারের খেলায় নো বলের পর ফ্রি হিট থাকলে ভুল ডেলিভারির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, কারণ ব্যাটার আক্রমণাত্মক শট নেওয়ার পূর্ণ সুযোগ পায়।

এখন নিয়মের প্রয়োগ ও ফ্রি হিটের অংশটি দেখে নিন:

আরও জানুন

ব্যাটারের কোমরের ওপরে ফুলটস ছুড়ছেন পেসার, আম্পায়ার নো বলের সংকেত দিচ্ছেন

তৃতীয় ধাপ: নো বলে ফ্রি হিট ও আউটের সীমা কী?

নো বলের পরবর্তী বৈধ ডেলিভারি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ফ্রি হিট হতে পারে, তবে নো বলটি কেন হয়েছে এবং প্রতিযোগিতার খেলার শর্ত কী—তার ওপর প্রয়োগ নির্ভর করে। ফ্রি হিটে ব্যাটার সাধারণত বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ বা হিট উইকেটে আউট হন না; কিন্তু রানআউট, বল দুবার মারা এবং ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার মতো নির্দিষ্ট আউট এখনও সম্ভব।

ফ্রি হিট নিজে কোনো নতুন নো বল নয়; এটি আগের নো বলের ফল হিসেবে পরবর্তী ডেলিভারিতে ব্যাটারের সুরক্ষা বাড়ায়। যদি ফ্রি হিট ডেলিভারিটি আবার নো বল হয়, পরের বলেও ফ্রি হিট চলতে পারে, এবং পেনাল্টি রান আবার যোগ হয়। বলটি ব্যাটারের গায়ে লাগলে বা ব্যাটে ছুঁয়ে বাউন্ডারিতে গেলে ব্যাটিং দল অতিরিক্ত রান পেতে পারে। তবে ফ্রি হিটে রানআউটের ঝুঁকি একেবারে শেষ হয় না—ব্যাটার ক্রিজের বাইরে থাকলে ফিল্ডার স্টাম্প ভাঙতে পারেন। এই জায়গায় দর্শকের সবচেয়ে বড় ভুল হলো “ফ্রি হিট মানেই কোনোভাবেই আউট নয়” ভাবা।

টেস্ট ক্রিকেটে ফ্রি হিটের প্রয়োগ সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো সাধারণ নয়; তাই ম্যাচের ফরম্যাট না জেনে ধারাভাষ্যের একটি বাক্যকে সব খেলার নিয়ম ধরে নেওয়া উচিত নয়। স্থানীয় টুর্নামেন্টে আয়োজক কমিটি আলাদা খেলার শর্ত প্রকাশ করতে পারে। বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, ভারতের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ এবং আইসিসির বিশ্বকাপ—তিন ক্ষেত্রেই মূল নো বল আইন কাছাকাছি হলেও প্রতিযোগিতার নির্দিষ্ট শর্তে প্রযুক্তি, রিভিউ এবং ফ্রি হিটের ব্যাখ্যা আলাদা হতে পারে।

নো বলে সম্ভাব্য আউটের দ্রুত তালিকা:

  • রানআউট বহাল থাকতে পারে।
  • বল দুবার ইচ্ছাকৃতভাবে মারলে আউট হতে পারে।
  • ফিল্ডিংয়ে বাধা দিলে আউট হতে পারে।
  • বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ এবং হিট উইকেট সাধারণত নো বলে আউট নয়।
  • নো বলে স্টাম্পিং সরাসরি কার্যকর নয়, তবে ব্যাটার রান নেওয়ার চেষ্টা করলে রানআউট হতে পারে।

মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আইন ২১ এবং আইন ৩৮ থেকে বোঝা যায়, নো বল ব্যাটারকে সম্পূর্ণ অযোগ্যতা দেয় না; বরং নির্দিষ্ট আউট বাদ দেয়। তাই আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্ক করার আগে বলটি নো বল ছিল কি না এবং আউটের ধরনটি কোন আইনের অধীনে পড়ে—এই দুই বিষয় আলাদা করুন। রানআউট, স্টাম্পিং ও ফ্রি হিটের পার্থক্য

সীমিত ওভারের ম্যাচে নো বলের পর ফ্রি হিটের ঘোষণা, ব্যাটার আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে প্রস্তুত

চূড়ান্ত হিসাব: কার জন্য কোন নিয়ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

নো বলের নিয়ম বোঝার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো ডেলিভারিকে চারটি স্তরে দেখা: বোলারের পা, বলের উচ্চতা, বলের পথ এবং ডেলিভারির পরের ফল। পায়ের ভুলে নো বল হলে ১ রান ও পুনরায় বল আসে; ব্যাটের শটে চার হলে সেই রান যোগ হয়; ফ্রি হিট থাকলে পরবর্তী বলের কৌশল বদলে যায়; আর আউটের ধরন নির্ধারণ করে ব্যাটার সত্যিই বেঁচেছেন কি না।

ব্যাটারের জন্য প্রধান শিক্ষা হলো নো বল শুনেই থেমে না যাওয়া। বলটি খেলার উপযোগী হলে শট নেওয়া যায়, কারণ নো বল হলেও বলটি লাইভ থাকে এবং দৌড়ানো সম্ভব। বোলারের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কতা হলো ফ্রন্ট-ফুট নো বলের সঙ্গে কোমর-উচ্চ ফুলটস বা অতিরিক্ত বাউন্সার একসঙ্গে না ঘটানো। অধিনায়কের জন্য সিদ্ধান্তটি আরও কঠিন: নো বলের পর ফ্রি হিটে ফিল্ড ছড়ানো যায় না, আবার আক্রমণাত্মক ফিল্ড না রাখলে বড় শটের ঝুঁকি বাড়ে।

ক্রিকেট ভক্তের ম্যাচ পর্যালোচনায় নো বলের প্রভাব বিচার করার সময় শুধু মোট অতিরিক্ত রান নয়, “নো বলের পরবর্তী তিন ডেলিভারিতে কত রান” এবং “ফ্রি হিটে ব্যাটার কী বিকল্প পেয়েছেন”—এই দুটি সূচকও দেখা উচিত। এটি সাধারণ স্কোরকার্ডের বাইরে একটি ব্যবহারিক বিশ্লেষণ। একইভাবে, একটি বোলারের নো বলের হার ২ শতাংশ হলেও যদি তার ৬০ শতাংশ নো বল ডেথ ওভারে হয়, ম্যাচ-ঝুঁকি অনেক বেশি। সংখ্যা কখনো পুরো গল্প বলে না, কিন্তু ভুল জায়গায় আসা একটি নো বল পুরো ম্যাচের গল্প বদলে দেয়।

সংক্ষেপে সিদ্ধান্ত:

  1. পপিং ক্রিজ অতিক্রম করা সামনের পা নো বলের প্রধান কারণ।
  2. কোমর-উচ্চ ফুলটস ও অতিরিক্ত বাউন্সার ফরম্যাটভেদে নো বল হতে পারে।
  3. নো বলে অন্তত ১ রান যোগ হয় এবং বল ওভারে গণনা হয় না।
  4. সীমিত ওভারে পরের ডেলিভারিতে ফ্রি হিট থাকতে পারে।
  5. নো বলে সব আউট বাতিল হয় না; রানআউট ও কয়েকটি বিশেষ আউট বহাল থাকে।
  6. নো বলের পেনাল্টি রান এবং ব্যাটের রান আলাদা করে হিসাব করতে হয়।

এই নিয়মগুলো জানলে টেলিভিশন রিপ্লে, স্কোরকার্ড এবং আম্পায়ারের সংকেত একসঙ্গে পড়া সহজ হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ, নো বলকে ছোটখাটো ভুল না ভেবে ম্যাচ-পরিস্থিতির ঝুঁকি হিসেবে দেখতে হবে—বিশেষ করে শেষ ওভার, ফ্রি হিট এবং কম ব্যবধানের রান তাড়ায়।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিয়মগুলো আবার মিলিয়ে নিন:

আরও জানুন

ক্রিকেটে নো বল নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্ন: ক্রিকেটে নো বল কী?

উত্তর: বোলারের অবৈধ ডেলিভারিকে নো বল বলা হয়, যার জন্য ব্যাটিং দল অন্তত ১ রান পায় এবং বলটি বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না। সামনের পা পপিং ক্রিজ অতিক্রম করা, কোমর-উচ্চ ফুলটস, অতিরিক্ত বাউন্সার বা পিচে অস্বাভাবিকভাবে একাধিকবার বাউন্স করা এর কারণ হতে পারে। নো বলের পরও বল লাইভ থাকে, তাই ব্যাটার দৌড়াতে বা বাউন্ডারি মারতে পারেন। প্রতিযোগিতার খেলার শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী ডেলিভারিতে ফ্রি হিটও থাকতে পারে।

প্রশ্ন: নো বল কীভাবে শনাক্ত করবেন?

উত্তর: প্রথমে বোলারের সামনের পা পপিং ক্রিজের সামনে পড়েছে কি না দেখুন, তারপর বলের উচ্চতা, বাউন্স এবং ব্যাটারের নাগাল পরীক্ষা করুন। টেলিভিশন ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ার সাধারণত পায়ের অবস্থান থামানো ছবিতে যাচাই করেন। মাঠের ক্রিকেটে আম্পায়ারের দৃষ্টি ও সংকেতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়। দর্শক হিসেবে স্কোরবোর্ডের “এনবি” চিহ্নের সঙ্গে অতিরিক্ত রান ও বলের ফল মিলিয়ে দেখুন।

প্রশ্ন: নো বল এবং ওয়াইডের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: নো বল মূলত বোলিং অ্যাকশন, পায়ের অবস্থান বা ডেলিভারির উচ্চতা-সংক্রান্ত অবৈধতা; ওয়াইড হলো ব্যাটারের স্বাভাবিক নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বল। দুটির ক্ষেত্রেই সাধারণত ১ রান পেনাল্টি হয় এবং বলটি ওভারে গণনা হয় না। তবে নো বলের পর সীমিত ওভারে ফ্রি হিট পাওয়া যেতে পারে, ওয়াইডের পর সাধারণত তা পাওয়া যায় না। তাই স্কোরকার্ডে “এনবি” ও “ডব্লিউডি” আলাদা করে লেখা হয়।

প্রশ্ন: নো বলে কি ব্যাটার আউট হতে পারেন?

উত্তর: নো বলে ব্যাটার রানআউট, বল দুবার মারা বা ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার কারণে আউট হতে পারেন। কিন্তু বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ এবং হিট উইকেট সাধারণত নো বলে কার্যকর হয় না। ব্যাটার ক্রিজ ছেড়ে রান নিতে গেলে স্টাম্প ভেঙে রানআউট করা যায়। তাই “নো বল মানেই সম্পূর্ণ নিরাপদ” ধারণাটি ভুল এবং শেষ মুহূর্তে বিপজ্জনক।

প্রশ্ন: নো বলে কত রান যোগ হয়?

উত্তর: নো বলের জন্য অন্তত ১ রান পেনাল্টি যোগ হয়, এরপর ব্যাটার বা অতিরিক্ত রান আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে। নো বলে ব্যাটার চার মারলে মোট পাঁচ রান হতে পারে; বল ব্যাটারে না লেগে সীমানায় গেলে বাই বা লেগ বাইয়ের সঙ্গে পেনাল্টি রান যুক্ত হয়। রানটি বোলারের নো বল পরিসংখ্যানে যায়, কিন্তু বাই ও লেগ বাই সাধারণত বোলারের ব্যক্তিগত রান হিসেবে ধরা হয় না। স্কোরারকে তাই প্রতিটি রান আলাদা শ্রেণিতে নথিভুক্ত করতে হয়।

প্রশ্ন: নো বলের পর ফ্রি হিট কখন হয়?

উত্তর: সীমিত ওভারের ক্রিকেটে খেলার শর্ত অনুযায়ী নো বলের পরের ডেলিভারি ফ্রি হিট হয়। ফ্রি হিটে ব্যাটার বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ বা হিট উইকেটে সাধারণত আউট হন না, তবে রানআউট ও কয়েকটি বিশেষ আউট বহাল থাকে। নো বলটি আবার হলে পরবর্তী ডেলিভারিতেও ফ্রি হিট চলতে পারে। টেস্ট ক্রিকেট বা স্থানীয় প্রতিযোগিতায় একই প্রয়োগ ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট খেলার শর্ত দেখে নিন।

প্রশ্ন: বোলার নো বল কমানোর জন্য কী করবেন?

উত্তর: বোলারকে রানআপের শেষ ধাপে গতি নিয়ন্ত্রণ করে পপিং ক্রিজের ভেতরে নিরাপদ অবতরণ করতে হবে। অনুশীলনে ক্রিজের সামনে লক্ষ্যচিহ্ন বসিয়ে ফ্রন্ট-ফুট অবস্থান যাচাই করা, ক্লান্তির সময় ওভারস্টেপ নজরে রাখা এবং কোমর-উচ্চ ফুলটসের জন্য নিয়মিত উচ্চতা অনুশীলন করা কার্যকর। অধিনায়ককে প্রতি ওভারে নো বলের কারণ নথিবদ্ধ করা উচিত—শুধু সংখ্যা নয়, কারণও। এতে পেসার, স্পিনার এবং ডেথ-ওভার বোলারদের জন্য আলাদা সংশোধন পরিকল্পনা করা যায়।

ক্রিকেটের নিয়ম আরও গভীরভাবে বুঝতে এই বিষয়ভিত্তিক পাঠও দেখুন:

এলবিডব্লিউ নিয়মের পূর্ণ ব্যাখ্যা

ক্রিকেট স্কোরকার্ড পড়ার সহজ পদ্ধতি

টি-টোয়েন্টি ও একদিনের ক্রিকেটের খেলার শর্ত

এই নিয়মগুলো মনে রাখুন, কারণ একটি ছোট পায়ের ভুল কখনোই শুধু “এক রান” নয়; সেটি হতে পারে ফ্রি হিট, অতিরিক্ত বাউন্ডারি এবং পুরো ম্যাচের ফল বদলে দেওয়ার শুরু।

আরও ক্রিকেট নিয়ম ও ম্যাচ বিশ্লেষণ পেতে ক্রিকেট ভক্তের সঙ্গে থাকুন:

আরও জানুন

§
❦

ক্রিকেট ভক্ত · The Midnight Archive · An Exhibition of Thought

সম্পর্কিত নিবন্ধ